ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর জ্বালানি তেল রফতানি বন্ধ করেছে কাস্পিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়াম (সিপিসি)। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলার মধ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে গতকাল পণ্যটির দাম বেড়েছে ২ শতাংশের বেশি। পাশাপাশি ওপেক প্লাসের ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) জ্বালানি তেল উত্তোলন বৃদ্ধি স্থগিতের সিদ্ধান্ত বহাল আছে। এটিও পণ্যটির দরবৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ব্যারেলে ১ ডলার ২৬ সেন্ট বা ২ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য পৌঁছেছে ৬৩ ডলার ৬৪ সেন্টে। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৫৯ ডলার ৮২ সেন্টে। এটি আগের দিনের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ২৭ সেন্ট বা ২ দশমিক ১৭ শতাংশ বেশি।
উল্লেখ্য, কাস্পিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়াম হলো একটি আন্তর্জাতিক জোট, যা রাশিয়া ও কাস্পিয়ান সমুদ্র অঞ্চলের জ্বালানি তেল রফতানির জন্য পাইপলাইন পরিচালনা করে। বিশ্বের প্রায় ১ শতাংশ জ্বালানি তেল এ পাইপলাইন ব্যবহার করে সরবরাহ করা হয়। গত শনিবার জোটটি জানিয়েছে, রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগরে অবস্থিত টার্মিনালে একটি মুরিং ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাইপলাইন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল উত্তোলনের প্রায় অর্ধেক হিস্যা ওপেক প্লাসের। জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে আনা ও বাজার হিস্যা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে জোটটি চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে উত্তোলন বাড়িয়ে আসছে। তবে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনায় অক্টোবর থেকে উত্তোলন বৃদ্ধির গতি কমাচ্ছে সংগঠনটি। জোটের সদস্য আটটি দেশের চলতি মাসের প্রথম বৈঠকে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে উত্তোলন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। এর আগে নভেম্বরের বৈঠকে জোটটি একই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ভেনিজুয়েলার ওপর ও চারপাশের আকাশপথ বন্ধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।’
তার এ বক্তব্যে জ্বালানি তেলের বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারণ ভেনিজুয়েলা দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম প্রধান জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশ। যদিও গত রোববার ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
আইএনজির বিশ্লেষকরা বলেন, ইউক্রেনের ওপর অতিরিক্ত হামলা ও যুক্তরাষ্ট্র-ভেনিজুয়েলা উত্তেজনার কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে ঝুঁকি বেড়েছে।